বুধবার, ০৮ জুলাই ২০২০, ০৭:৩৭ পূর্বাহ্ন

করোনাভাইরাসে বিশ্বব্যাপী মৃত্যু: ৮২ হাজার ছাড়ালো

এবি.টিভি. আন্তর্জাতিক রিপোর্ট
  • Update Time : বুধবার, ৮ এপ্রিল, ২০২০
  • ১৫ Time View

বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ার কোনও লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। বরং প্রতিদিনই যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কয়েকটি দেশে মৃত্যু ও নতুন আক্রান্তের রেকর্ড তৈরি হচ্ছে।

এ মুহূর্তে বিশ্বের ২০৯টি দেশে মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বিশ্বের ১৪ কোটি ৩৬ হাজার ৮৪১ জন মানুষ। আর মারা গেছেন ৮২ হাজার ৪২১ জন।

করোনায় বেশিরভাগ মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যে। তবে মৃত্যুর সংখ্যায় এখনও শীর্ষে রয়েছে ইতালি।

মৃত্যুতে এখনও শীর্ষে ইতালি

দেশটিতে মঙ্গলবার পর্ন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মোট ১৭ হাজার ১২৭ জন। এদের মধ্যে মঙ্গলবার গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ৬০৪ জন। আর নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৩ হাজারের বেশি মানুষ।

এর আগে সোমবার সেখানে মারা গেছেন ৬৩৬ জন এবং নতুন সংক্রমিত হয়েছেন আরও ৩৫৯৯ জন।

এর আগে গত রোববার সেখানে মৃত্যু হয়েছিল ৫২৫ জনের। দেশে করোনা সংক্রমণের পর থেকে যা সর্বনিম্ন বলে জানিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। ওই দিন নতুন করে সংক্রমিত হন চার হাজার ৩১৬।

এর আগে প্রতিদিন যে সংখ্যাটা ছিল ৬ হাজার বা তারও বেশি। ইটালির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানানো হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মৃত্যুর গ্রাফটা যেভাবে ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছিল, তা অনেকটাই নামিয়ে আনা হয়েছে। সংক্রমণ যাতে আর বাড়তে না পারে তার জন্য কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের দেয়া সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এই মুহূর্তে ইটালিতে আক্রান্ত এক লাখ ৩৫ হাজার ৫৮৬ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মোট ২৪ হাজারের বেশি মানুষ। তবে এখনও চিকিৎসাধীন রয়েছেন আরও ৯৪ হাজারের বেশি মানুষ।

মৃত্যু ও আক্রান্তে দ্বিতীয় স্থানে স্পেন

করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্ত এই দুই বিভাগেই তালিকার দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্পেন। সেখানে মঙ্গলবার পর্যন্ত সবমিলিয়ে মারা গেছেন ১৪ হাজার ৪৫ জন। এদের মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু হয়েছে ৭ শতাধিক। সেখানে মঙ্গলবার নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন আরও ৫ হাজার ২৬৭ জন। ফলে ইউরোপের এই দেশটিতে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৯৪২য়ে।

এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৪৩ হাজার ২০৮ জন এবং এখনও করোনায় আক্রান্ত রয়েছেন আরও ৮৪ হাজার ৬৮৯ জন।

করোনায় আক্রান্তের দিক দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরই এর অবস্থান অর্থাৎ দ্বিতীয়। আর মৃত্যুতে স্পেনের উপরে আছে কেবল ইতালি।

সর্বোচ্চ আক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রে

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি করোনা রোগীর অবস্থান এখন যুক্তরাষ্ট্রে। এ মুহূর্তে দেশটির মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা হচ্ছে ৪ লাখ ৫৪৯ জন। এদের মধ্যে মঙ্গলবার গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩৩ হাজারের বেশি মানুষ।

মঙ্গলবার বিশ্বের সবচেয়ে বেশি মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছে যুক্তরাষ্ট্রে। সেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছেন প্রায় ২ হাজার মানুষ (১৯৭০ জন। দেশটিতে এটি একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর রেকর্ড। সেখানে সবমিলিয়ে মারা গেছে ১২ হাজার ৮৪১ জন।

করোনা আক্রান্তে লাখ ছাড়িয়েছে ফ্রান্সও

যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও স্পেনের পর করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যায় লাখের ঘর অতিক্রম করলো ইউরোপের আরেক দেশ ফ্রান্সও। মঙ্গলবার গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ১১ হাজারের বেশি মানুষ। ফলে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯ হাজার ৬৯ জনে।

পাশাপাশি বেড়েছে মৃত্যুর সংখ্যাও। ফ্রান্সে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মোট ১০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছে। এদের মধ্যে মঙ্গলবার গত ২৪ ঘন্টায় মারা গেছেন ১ হাজার ৪১৭ জন। ফলে ফ্রান্সে মঙ্গলবার পর্যন্ত সবমিলিয়ে মারা গেছেন ১০ হাজার ৩২৮ জন।

জার্মানিতে একদিনে করোনায় আক্রান্ত ৪ সহস্রাধিক

ইউরোপের আরেক দেশ জার্মানিতে এই মুহূর্তে মোট করোনায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৭ হাজার ৬৬৩ জন। এদের মধ্যে মঙ্গলবার গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজারের বেশি মানুষ (৪২৮৮ জন)।

দেশটিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন মোট ২ হাজার ১৬ জন। এদের মধ্যে মঙ্গলবারই মারা গেছেন ২০৬ জন। তবে ইউরোপের অন্য দেশগুলোর তুলনায় এখানে মৃত্যুর হার তুলনামূলক অনেক কম। বেশি বেশি করোনা পরীক্ষার কারণে সেখানে করোনায় মৃত্যু কম হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।

যুক্তরাজ্যে করোনায় আক্রান্ত অর্ধলক্ষের বেশি মানুষ

দেশটিতে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৫৫ হাজার ২৪২ জন। এদের মধ্যে মঙ্গলবারই আক্রান্ত হয়েছেন ৩ হাজারের বেশি মানুষ আর মারা গেছেন ৭৮৬ জন। ফলে সেখানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬৩৪ জন। দেশটির প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনও করোনায় আক্রান্ত হয়ে বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাকে অক্সিজেন দিয়ে রাখা হয়েছে। তার সেরে উঠতে ১-২ মাস সময় লাগবে বলে জানা গেছে।

ছন্দে ফিরছে চীন

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয়েছিল চীন থেকে। কিন্তু এই দেশ সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হার অনেকটাই কমিয়ে এনেছে দ্রুত। ফলে সংক্রমণ ও মৃত্যুর তালিকায় অনেকটাই নিচে নেমে এসেছে তারা। এখন দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা হচ্ছে ৮১ হাজার ৭৪০ জন। আর মারা গেছেন ৩ হাজার ৩৩১ জন।

মঙ্গলবার সেখানে করোনায় আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা যায়নি। গত বছরের ডিসেম্বরের শেষ দিকে করোনা ছড়িয়ে পড়ার পর দেশটি এবারই প্রথম মৃত্যুহীন একটি দিন পার করলো। পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় করোনার কেন্দ্রস্থল হিসাবে পরিচিত উহানের লকডাউন তুলে নেয়া হয়েছে। করোনার আঘাত সামলে ধীরে ধীরে ছন্দে ফিরছে চীন।

ইরান

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে করোনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে ইরান। দেশটিতে মোট ৬২ হাজার ৫৮৯ জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। আর মারা গেছেন মোট ৩ হাজার ৮৭২ জন।

এদিকে বাংলাদেশেও করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে চলেছে। বুধবার পর্যন্ত করোনায় মোট ২০ জন মারা গেছেন এবং আরও ২১৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী

মুজিববর্ষ